বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘খুমি পিপল ফোর্স’-এর অনুপ্রবেশ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য উদীয়মান নিরাপত্তা ঝুঁকি

 বান্দরবানের রুমা ও থানচি সংলগ্ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের চীন প্রদেশের পালেতোয়া টাউনশিপ ভিত্তিক নতুন সশস্ত্র সংগঠন ‘খুমি পিপল ফোর্স’ (KPF)-এর কৌশলগত আনাগোনা ও অবস্থান শনাক্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য একটি সরাসরি হুমকি।

মিয়ানমারের ‘খুমি ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি’র এই সশস্ত্র শাখাটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করে এবং বিগত দুই মাস ধরে আরাকান আর্মি (AA) ও কুমি ন্যাশনাল আর্মি (KNA)-এর যৌথ দমনপীড়নের মুখে টিকতে না পেরে বান্দরবানের পার্বত্য সীমান্ত অঞ্চলকে সেফ-হেভেন বা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছে।

গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমারের কৌশলগত সংযোগস্থল বা ‘তিনমুখ পিলারের’ কেসপাই পাড়া এলাকায় প্রথম এদের সশস্ত্র উপস্থিতি নজরে আসে এবং পরবর্তীতে তংব্রাই ভুলু চাঁদ, থানদৈ, ক্রামচি পাড়া ও তিন্দুর পাউপাড়া এলাকায় এদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে, সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি কেবল অনুপ্রবেশই করেনি, বরং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ক্রামচি পাড়ার কারবারির ছেলে অংসাই খুমিকে প্রধান করে একটি স্থানীয় কমিটি গঠন করেছে; স্থানীয় নৃগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

উপরন্তু,

গত ২৫ মে খুমি পিপল ফোর্সের নেতা লা-থোইং খুমি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-কে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে সীমান্তে তাদের অবাধে চলাচলের অনুমতি ও সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে, যা সার্বভৌম একটি দেশের ভূখণ্ড ও আইনি কর্তৃত্বের প্রতি চরম অবমাননাকর।

আরাকান আর্মির সাথে খুমি পিপল ফোর্সের চলমান জাতিগত সংঘাত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ার এবং এর জেরে বিদেশি শক্তির সামরিক আগ্রাসনে দেশের অখণ্ডতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে।

তবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ বাহিনীর অবস্থান অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন জানিয়ে কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকসার খান বিজিবির বর্ডার পোস্টে পাঠানো চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে স্পষ্ট করেছেন যে, সীমান্তে কোনো অননুমোদিত সশস্ত্র গ্রুপকে বরদাশত করা হবে না।

এই নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছে এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প সম্পন্ন হলে বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) গুলোকে একদম জিরো লাইনের কাছাকাছি শিফট করার পরিকল্পনা রয়েছে; বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুর্গম সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত অস্থায়ী ক্যাম্প ও চেকপোস্ট স্থাপন করে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment